বাইরের দেশ থেকে প্রোডাক্ট আনার উপায়।
বর্তমানে বাইরের দেশ থেকে প্রোডাক্ট আনা ঘরে বসেই বা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে সম্ভব।অনলাইনে ব্যবসা কিংবা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য অনেকে এখন বাইরের দেশ থেকে পণ্য আনতে চান।বিভিন্ন দেশ যেমন-চীন,ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, দুবাই, যুক্তরাষ্ট্র ইত্যাদি দেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করে ভালো মানের আয় করা সম্ভব।
অনেকের ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও সঠিক পদ্ধতি বা নিয়মনীতি না জানার কারণে বাইরের দেশ থেকে পণ্য আমদানি করতে দ্বিধাবোধ করেন। এখন অনেক সহজেই ঘরে বসে বিভিন্ন প্লাটফর্ম বা বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে সহজে বাইরে দেশ থেকে প্রোডাক্ট এনে বিজনেস শুরু করা অথবা নিজের জন্য অল্প পরিসরে নিয়ে আসা যাই।
পেজ সূচিপত্র: বাইরের দেশ থেকে প্রোডাক্ট আনার উপায়
- থার্ড পার্টি কুরিয়ার বা ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং সার্ভিস
- গ্লোবাল ই-কমার্স ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি অর্ডার
- কমার্শিয়াল বাণিজ্যিক আমদানি
- ডোর টু ডোর কার্গো সার্ভিস
- আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সেবা
- বিদেশে পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে
- আন্তর্জাতিক B2B মার্কেটপ্লেস এর মাধ্যম
- বিদেশি নির্মাতা থেকে সরাসরি
- শেষ কথাঃ লেখক এর মন্তব্য-
থার্ড পার্টি কুরিয়ার বা ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং সার্ভিস
অনেক বিদেশী ওয়েবসাইট সরাসরি বাংলাদেশ প্রোডাক্ট সার্ভিস করে না আর করলেও শিপিং চার্জ অনেক বেশি কাটে। এই সমস্যা সমাধান করে freight forwarding/shipping services.
এটি যেভাবে কাজ করে:-
প্রথমে শিপিং কোম্পানিগুলো আপনাকে তাদের ইউএসএ, ইউকে বা চায়নার ওয়্যারহাউজের
একটি ঠিকানা দেবে। পরবর্তীতে প্রোডাক্ট কেনার সময় ডেলিভারির এড্রেস হিসেবে শিপিং
কোম্পানির দেওয়া সেই ঠিকানা ব্যবহার করুন। পরে প্রোডাক্ট যখন তাদের ওয়্যারহাউসে
পৌঁছাবে তখন তারা কাস্টম ক্লিয়ারেন্স পার করে বিমান বা জাহাজে করে বাংলাদেশে
আপনার ঠিকানায় পৌঁছে দিবে।জনপ্রিয় কিছু লোকাল সার্ভিস
হচ্ছে ঃ-BuyAndShip,Shopup,ShopNShip,Air percel ইত্যাদি।
আরো পড়ুনঃ বাইরের দেশ থেকে পণ্য আনতে কত টাকা লাগে।এটি নির্ভর করে -
- পণ্যের মূল্য
- শিপিং চার্জ
- কাস্টমস ডিউটি
- ভ্যাট
- ক্লিয়ারিং খরচ
আপনি যদি ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করতে চান তাহলে প্রায় ৩০,০০০ থেকে ১০০,০০০ টাকা
পর্যন্ত বাজেট লাগতে পারে। তবে পণ্যের ধরন অনুযায়ী এর পরিমাণ কম বা বেশি হতে
পারে। আপনি যদি দামি পণ্য নিয়ে কাজ করতে চান তাইলে আপনার বাজেট বেশি রাখতে হবে
আর যদি স্বল্পমূল্যে প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করতে চান তাহলে আশা করা যায় ৩০,০০০
থেকে ১০০,০০০ টাকা মধ্যে বাজেট রাখলে আপনার ব্যবসা শুরু করা সম্ভব।
গ্লোবাল ই-কমার্স ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি অর্ডার
যারা খুব বেশি ঝামেলায় ছাড়া বাইরে দেশ থেকে পণ্য আনতে চান তারা এই মাধ্যমটি ফলো করতে পারেন। এই পদ্ধতিতে আপনি সারা বিশ্ব থেকে প্রোডাক্ট সিলেক্ট করে নিজের দেশে প্রোডাক্ট আনতে পারবেন। বাইরের দেশের যে কোম্পানি থেকে আপনি প্রোডাক্ট আনতে চাচ্ছেন সেই কোম্পানি সাথে আপনার কন্টাক্ট হলে তারা নিজেরাই সকল প্রসেসিং করে প্রোডাক্ট রেডি করে রাখবে এবং পরবর্তীতে আপনি আপনার পছন্দমত প্ল্যাটফর্ম সিলেক্ট করে প্রোডাক্ট আনতে পারবেন। বেশ কিছু আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম সরাসরি বাংলাদেশ পণ্য ডেলিভারি দিয়ে থাকে। যেমনঃ-
AliExpress: চাইনিজ এই প্ল্যাটফর্ম থেকে খুব সহজে কম খরচে বিভিন্ন গ্যাজেট,কাপড়, হোম এক্সেসরিজ, কসমেটিক্স ইত্যাদি আনা যায়। পোস্ট অফিসের মাধ্যমে আনলে শিপিং কস্ট অনেক কম পড়ে থাকে।তবে সময় একটু বেশি অর্থাৎ ২০ থেকে ৪৫ দিন লাগতে পারে।
Amazon/eBay: কিছু বিক্রেতা সরাসরি আন্তর্জাতিক ডেলিভারি সাপোর্ট করে DHLবা FedEx এর মাধ্যমে শিপিং হওয়ার সময় তুলনামূলক কম লাগে তবে চার্জ একটু বেশি। আপনার অর্ডার কি তো প্রোডাক্ট যদি তাড়াতাড়ি হাতে পেতে চান তাহলে আপনি এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রোডাক্ট আনতে পারেন।
Ubuy: এটি একটি আন্তর্জাতিক অনলাইন শপিং প্ল্যাটফরম। যেখানে বিভিন্ন দেশের পণ্য এক জায়গা থেকে অর্ডার করা যায়। এটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও ব্যান্ডের পণ্য গ্রাহকদের কাছে পণ্য পৌঁছে দেয়। দেশে না পাওয়া অনেক পণ্য কেনা যায়। তবে ডেলিভারিতে কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
কমার্শিয়াল বাণিজ্যিক আমদানি
আপনি যদি বড় পরিসরে ব্যবসার বা পাইকারি ব্যবসার জন্য বাইরে দেশ থেকে পন্য আমদানি করতে চান তাহলে সাধারণত ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি খুলে পণ্য আনা হয়। এটি সবচেয়ে নিরাপদ এবং আইন সম্মত পদ্ধতি। বাহিরের দেশ থেকে প্রোডাক্ট আনার উপায় অনেক রয়েছে কিন্তু কমার্শিয়াল বাণিজ্যিক আমদানি এই পদ্ধতিতে প্রোডাক্ট আনলে আপনি বৈধভাবে প্রোডাক্ট আনতে পারবেন এবং পরবর্তীতে আইনি কোন ঝামেলায় আপনাকে পড়তে হবে না ।
এটি করতে যা যা লাগবেঃ-
সিসিআইই থেকে বৈধ আমদানি নিবন্ধন সনদ নিতে হবে।অন্যান্য কিছু কাগজপত্র লাগবে
যেগুলো হচ্ছে- ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন সার্টিফিকেট, ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন
ইত্যাদি। পরবর্তীতে পর্ণবন্দরে পৌঁছানোর পর সিএনএফবা C&F এজেন্ট এর
সহায়তায় বিল অফ এন্ট্রি বা শুল্ক পরিশোধ করে পণ্য খালাস করতে হবে।
ডোর-টু-ডোর কার্গো সার্ভিস
আরো পড়ুনঃ নতুনদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
- বাজার গবেষণা ছাড়া বড় অর্ডার করবেন না
- প্রথমে নমুনা সংগ্রহ করুন
- বিশ্বস্ত সাপ্লায়ার নির্বাচন করুন
- কাগজপত্র যদি লাগে তাহলে সংগ্রহ করুন
- কাস্টমস আইন সম্পর্কে ধারণা রাখুন
- প্রতারণা এড়াতে নিরাপদ পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করুন
- আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী মাধ্যম ব্যবহার করুন
আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সেবা
আপনি যদি খুব কম পরিমাণ পণ্য বা আপনার ব্যবসার জন্য কোন স্যাম্পল আনতে চান তবে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সেবা ব্যবহার করতে পারেন।
নামকরা কুরিয়ারঃDHL,FedExবা UPS এর মাধ্যমে ছোট পার্সেল দ্রুত ও নিরাপদে দেশে আনা যায়। আপনার পার্সেল এর পরিমাণ বড় হোক বা ছোট হোক আপনি নির্দ্বিধায় এই মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে আপনার পার্সেল গুলো নিরাপদে দেশে আনতে পারবেন।
ট্রাকিং সুবিধাঃ অনলাইনের মাধ্যমে পণ্যের অবস্থান এবং ডেলিভারির সঠিক সময় জানা যায়। এই ট্রাকিং এর মাধ্যমে আপনার অর্ডারকৃত পণ্যটি ঠিক কোন অবস্থানে আছে এবং ডেলিভারি হতে আর কতদিন সময় লাগতে পারে সেটি আপনি সহজেই জানতে পারেন।
ব্যক্তিগত পার্সেলঃ ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য আমদানিতে এই মাধ্যমটি সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম। তবে বাণিজ্যিক পণ্যের পরিমাণ বেশি হলে অর্থাৎ আপনার পার্সেল এর পরিমাণ যদি বেশি হয় তাহলে এরা কাস্টম ক্লিয়ারেন্স এর জন্য বাণিজ্যিক কাগজ চাইতে পারে।
বিদেশি পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে
অনেকেরই পরিচিত আত্মীয়, বন্ধু-বান্ধব বিদেশে থাকে এবং তাদের মাধ্যমে পণ্য
সংগ্রহ করে দেশে পণ্য আনে। ক্ষুদ্র পরিসরে ব্যবসা করার জন্য অথবা নিজের ব্যবহারের
জন্য এটি একটি সহজ মাধ্যম হতে পারে। তবে বিজনেসের ক্ষেত্রে বা বড় পরিসরে বিজনেস
পরিচালনা করার ক্ষেত্রে বৈধ পথ অবলম্বন করা উত্তম।
সোর্সিং এজেন্ট এর মাধ্যমেঃ বিদেশে অবস্থানরত সোর্সিং এজেন্ট আপনার হয়ে ভালো মানের সাপ্লায়ার খুঁজে দেয়, দরদাম করে, প্রোডাক্ট এর মান যাচাই করে এবং শিপমেন্টের ব্যবস্থা করে। যারা নতুন বা প্রথমবার বিদেশ থেকে প্রোডাক্ট আনার চিন্তাভাবনা করছেন এবং আপনাদের ভাষাগত সমস্যা আছে তাদের জন্য এটি একটি ভালো বিকল্প পদ্ধতি।
আরো পড়ুনঃ বাইরে দেশ থেকে প্রোডাক্ট আনার ক্ষেত্রে কোনগুলো নিষিদ্ধ
মেডিসিন, ফুড সাপ্লিমেন্ট, নেটওয়ার্কিং ডিভাইস, নকল ব্যান্ডের পণ্য, রাসায়নিক
দ্রব্য সহ বেশ কিছু প্রোডাক্ট আছে যেগুলো সংশ্লিষ্ট সংস্থার পারমিশন ব্যতীত
আমদানি করার নিষিদ্ধ। কোন নিষিদ্ধ বা অবৈধ পণ্য আমদানি করা যাবে না। এ ব্যাপারে
আপনাদের সংশ্লিষ্ট সিএনএফ এজেন্ট এর সাথে পূর্বে আলোচনা করে নেওয়া উচিত।
আপনি যে প্রোডাক্ট বাইরে থেকে আনতে চান সেই প্রোডাক্ট সম্পর্কে আগে তথ্য জানুন
এবং সেগুলো বাইরে থেকে আনা যাবে কিনা অথবা নিষিদ্ধ কিনা আগে যাচাই-বাছাই করুন
তারপরে প্রোডাক্ট আনার ব্যবস্থা নিন।
আন্তর্জাতিক B2B মার্কেটপ্লেস এর মাধ্যমে
আপনি যদি পাইকারি পরিমাণে প্রোডাক্ট এনে বাংলাদেশে বিক্রি করতে চান তবে সবচেয়ে জনপ্রিয় উপায় হলো আন্তর্জাতিক B2B(Business to business) মার্কেটপ্লেস।যেখানে সরাসরি প্রস্তুতকারক বা পাইকারি ক্রেতার কাছ থেকে পণ্য কিনা যাই। এখানে বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার সাপ্লায়ার পাওয়া যায় এবং দাম, পণ্যের মান,রিভিউ তুলনা করে অর্ডার দেওয়া যায়। বড় পরিমানে পণ্য আমদানি জন্য এটি একটি কার্যকারী পদ্ধতি।
B2B মার্কেটপ্লেস এর মাধ্যমে পণ্য আমদানির সময় যে সকল বিষয় এর দিকে নজর দিবেন-
- সঠিক B2B প্ল্যাটফর্ম নির্বাচন করুন
- আপনি যে পণ্য কিনতে চাচ্ছেন তার লাভজনকতা যাচাই করুন
- যে সকল কোম্পানি থেকে প্রোডাক্ট কিনতে চাচ্ছেন তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে জানুন
- প্রোডাক্টের নমুনা সংগ্রহ করুন
- নিরাপদ পদ্ধতিতে পেমেন্ট করুন
- শিপিং পদ্ধতি নির্বাচন করুন
বিদেশি নির্মাতা থেকে সরাসরি
অনেক ব্যবসায়ী কোন মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি কারখানা থেকে প্রস্তুতকারকের কাছ থেকে পণ্য কেনেন। এতে করে পণ্যের দাম তুলনামূলকভাবে কম হয় এবং নিজের ব্রান্ডের নামে পণ্য তৈরি সুযোগ থাকে। নিজে দেখে শুনে রিভিউ দেখে পণ্য যাচাই-বাছাই করে নিতে পারেন। তবে বড় অর্ডার বা ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা থাকলে এই পদ্ধতি অবলম্বন করা শ্রেয়।
আর আপনার যদি এ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা না থাকে তাহলে যারা অভিজ্ঞ বা বাইরের দেশ থেকে এই পদ্ধতিতে প্রোডাক্ট আনেন তাদের থেকে পরামর্শ নিন।আপনি বিদেশি নির্মাতা থেকে সরাসরি প্রোডাক্ট নিতে চাইলে আপনাকে আগে প্রোডাক্টের আসল নকল চিনতে হবে এবং তাদের কোম্পানি ব্যাকগ্রাউন্ড কেমন সে সম্পর্কে জানতে হবে। সবকিছু যাচাই বাচাই করার পরে প্রোডাক্ট কিনা উত্তম এতে করে ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
তবে আপনার যদি সামর্থ্য থাকে এবং আপনি যদি অভিজ্ঞ হন তাহলে বিদেশি নির্মাতা থেকে সরাসরি প্রোডাক্ট আনলে আপনার বিজনেসের ব্যাকগ্রাউন্ড ভালো হবে এবং আপনি কাস্টমারদের বিশ্বস্ততা অর্জন করতে পারবেন সহজেই।
শেষ কথাঃ লেখক এর মন্তব্য-
প্রযুক্তির কল্যাণে বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়। বাহিরের দেশ থেকে প্রোডাক্ট এনে ব্যবসা শুরু করা বর্তমানে একটি সম্ভাবনাময় আয়ের মাধ্যম। তবে সফল হতে হলে সঠিক পণ্য নির্বাচন ,নির্ভরযোগ্য সাপ্লায়ার, নিরাপদ পেমেন্ট,আইনগত নিয়ম মেনে চলা এবং বাজেট ইত্যাদি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছোট পরিসরে ব্যবসার শুরু করে ধীরে ধীরে ব্যবসা বড় করলে ক্ষতির পরিমাণ বা ঝুঁকির পরিমাণ কম থাকবে এবং দীর্ঘমেয়াদি লাভজনক ব্যবসা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
আপনি যদি ছোট ব্যবসায়ী বা নতুন কোন ব্যবসা শুরু করার উদ্দেশ্যে বাইরে দেশ থেকে প্রোডাক্ট আনার উপায় খুঁজেন তাহলে আপনাকে উপরের বিষয়গুলো অবশ্যই মাথায় রেখে পরিকল্পনা করতে হবে। তবে মনে রাখবেন,পরিকল্পনা মানুষকে সফলতা এনে দিতে পারেনা যদি সে অনুযায়ী পরিশ্রম না করা হয়।তাই বুদ্ধি খাটিয়ে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক সার্ভিস ব্যবহার করুন এবং ঝামেলা মুক্ত শপিং উপভোগ করুন।

নুভিয়া নেস্ট নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url