ছোট খামারের জন্য কেমন পশু নির্বাচন করা উচিত?

 

একটি খামার তৈরি করতে হলে প্রথমে যে বিষয়টির দিকে গুরুত্ব দিতে হবে তা হচ্ছে সঠিক পশু  নির্বাচন। একটি খামারে লাভ-ক্ষতি অনেকটা নির্ভর করে সেখানে থাকা পশুর ওপর। স্বাস্থ্যবান ও ভালো জাতের পশু সাধারণত দ্রুত বৃদ্ধি পায় রোগ বালাই কম হয় এবং উৎপাদন ভালো দেয়।


ছোট-খামারের-জন্য-কেমন-পশু-নির্বাচন-করা-উচিত


অন্যদিকে দুর্বল এবং অসুস্থ পশু কিনলে চিকিৎসা খরচ বাড়ে এবং খামারের লাভ কমে যায়।  পশুর জাত, বয়স, স্বাস্থ্য, খাবারের প্রয়োজন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বিবেচনা না করে পশু নির্বাচন করলে পরবর্তীতে লোকশানের সম্ভাবনা থাকে । 


পেজ সূচিপত্রঃ ছোট খামারের জন্য কেমন পশু নির্বাচন করা উচিত?

খামারের উদ্দেশ্য অনুযায়ী পশু নির্বাচন করুন 

পশু কেনার আগে ঠিক করুন আপনার খামারের মূল উদ্দেশ্য কি। আপনি কি দুধ উৎপাদন করতে চান, মাংস উৎপাদন করতে চান নাকি বংশবৃদ্ধির জন্য পশু পালন করতে চান? আপনার পরিকল্পনা অনুযায়ী পশু নির্বাচন করলে সফল হওয়া সহজ হয়ে যাবে। যেমন-

  • দুধের জন্য গাভী বা ছাগল নির্বাচন করা যায়
  • মাংসের জন্য গরু ছাগল বা ভেড়া পালন করা যায়
  • ডিম এবং মাংসের জন্য হাঁস মুরগি পালন করা যায়
  • বংশ বৃদ্ধির জন্য ভালো জাতের পশু নির্বাচন করা প্রয়োজন

আপনার উদ্দেশ্য ঠিক করে পশু কিনলে খামারের পরিকল্পনা করা সহজ হয়ে যাবে।  সঠিক পশু নির্বাচনের মাধ্যমে রোগের ঝুঁকি কমানো যায়, খরচ নিয়ন্ত্রণ করা যায়, মৃত্যুর ঝুঁকি কমে, বেশি লাভ করা যায় ।সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আপনার পরিকল্পনা বা ইচ্ছে অনুযায়ী পশু নির্বাচন করে খামার করলে আপনার মনবল বৃদ্ধি পাবে এবং আপনার খামার করার পিছনে অনিহা বা টেনশন কাজ করবে না ।বরং আপনি আনন্দের সাথে এগিয়ে যেতে পারবেন কোন পিছুটান ছাড়াই😊।

স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে মানানসই পশু নির্বাচন করুন

বাংলাদেশের সকল অঞ্চলের আবহাওয়া বা পরিবেশ একই রকম নয় ।আবার খাবারের ব্যবস্থাও এক রকম নয়। তাই এমন পশু নির্বাচন করুন যেগুলো আপনার এলাকার পরিবেশের সঙ্গে সহজেই মানিয়ে নিতে পারবে। আপনার নির্বাচনকৃত পশুটি যদি দেশীয় জাতের হয় তাহলে সাধারণত আবহাওয়া ও স্থানীয় খাবারের সাথে সহজেই মানিয়ে নিতে পারবে। আর দেশীয় পশু যেহেতু আমাদের দেশেই লালিত পালিত হয় বা আমাদের দেশের আবহাওয়ার সাথে সম্যঞ্জস্য রেখে তারা বড় হয় তাই তারা আমাদের দেশের যেকোন স্থানে গিয়েই মানিয়ে নিতে পারবে।

অন্যদিকে নির্বাচন করা পশুটি যদি বিদেশী জাতের হয় তাহলে তাদের খাবার ,যত্ন এবং উন্নত পরিবেশে প্রয়োজন হতে পারে।  এই সকল পশু আমাদের দেশের আবহাওয়া সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে নাও পারে। আবার অনেক বিদেশী পশু আছে যারা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যেকোনো আবহাওয়া নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে বা তাদের খাবার দাবারের ক্ষেত্রে কোন নির্দিষ্টতা নাই সেসকল পশু নির্বাচন করে আপনি সহজেই লাভবান হতে পারবেন। আপনি যদি পশু সম্পর্কে না জানেন তাহলে অভিজ্ঞতার পরামর্শ নিন। 

বয়সের দিকে বিশেষ নজর দিন 

পশু কেনার সময় বয়স জানা আবশ্যক। কারণ বয়সের উপর পশুর বেড়ে ওঠা বা উৎপাদন ক্ষমতা নির্ভর করে । আবার খুব ছোট পশু কিনলে তাদেরকে বিক্রির উপযুক্ত করতে অনেক সময় প্রয়োজন হয়। তাই উপযুক্ত বয়স যাচাই করে পশু কিনুন। দুধের গাভী কেনার ক্ষেত্রে তার বয়স, আগে বাচ্চা দিয়েছে কিনা, বর্তমানে দুধ দেয় কিনা  ইত্যাদি সম্পর্কে জানা উচিত। 

সঠিক বয়সের পশু নির্বাচন করলে খামার থেকে দ্রুত উৎপাদন পাওয়া সম্ভব হয়। বেশি বয়সের পশু দ্রুত বৃদ্ধি পায় না বা উৎপাদন ও ক্ষমতা প্রজনন ক্ষমতা কমে যায়।যদি আপনি গাভি কিনে দুধ বিক্রি করে লাভবান হতে চান তাহলে তাহলে অবশ্যই আপনাকে অল্প বয়সের বা আগে বেশি বাচ্চা হয়নি এমন গাভি নির্বাচন করা উচিত।কারন এইসকল গাভির প্রজনন ক্ষমতা বেশি থাকে এবং দুধ উৎপাদনে সক্ষম হয়ে থাকে।তাই আপানার ব্যবসাই লাভবান হতে পশুর বয়সের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। 

ভালো জাত নির্বাচন করুন


একই ধরনের পশুর মধ্যে বিভিন্ন জাত রয়েছে। প্রায় সকল পশুরই বিভিন্ন জাত রয়েছে। যেমন -ছাগলের জন্য দেশি ছাগল, বিদেশে ছাগল, রাম ছাগল ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের জাত  দেখা যাই। আবার গরুর ক্ষেত্রে কিছু জাত যেমন- দেশি গরু, অস্ট্রেলিয়ান গরু, কচের গরু ইত্যাদি ।কোন জাত দুধ উৎপাদনের জন্য ভালো আবার কোন জাত মাংস উৎপাদনের জন্য বেশি উপযোগী। 


তবে শুধু জাতের নাম শুনে পশু নির্বাচন করা ঠিক হবে না।কারণ ভালো জাত এর পশু হলেও তার স্বাস্থ্য যদি খারাপ হয় তাহলে উৎপাদন ক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই জাতের পাশাপাশি পশুর স্বাস্থ্য ,বয়স , বংশগত বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি বিবেচনা করার জরুরি। 


আরও পড়ুনঃখামারের পাশাপাশি মাছ চাষ করেও লাভবান হওয়া যাই


খামারের পাশাপাশি মাছ চাষ একটি বুদ্ধিমানের চিন্তা ভাবনা ।কারন, চাষকৃত পুকুরের উপরে যদি খামার করা হয় তাহলে মাছের খাদ্য যোগান দেওয়া সহজ হয়।খামারে যদি হাঁস ,মুরগি পালন করেন তাহলে  হাঁস ,মুরগির বিষ্ঠা মাছের খাদ্য হিসাবে কাজে লাগে ।অন্যদিকে খামার এর পরিস্কার ও পরিচ্ছন্ন  থাকে। পশুর বাড়তি খাবার নষ্ট  না করে মাছ এর খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করতে পারবেন যার ফলে বাড়তি খরচ কমে যাবে। অল্প খরচ এ খমারের পাশাপাশি মাছ চাষ করেও লাভবান হওয়া সম্ভব। 

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিবেচনা করুন


পশু নির্বাচনের সময় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দিকে নজর দিতে।ছোট খামারের রোগ ছড়িয়ে পড়লে অনেক বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে ।তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পশুর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দিক। যে সকল পশু পরিবেশের সঙ্গে ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারে, অসুস্থ হয় না সে সকল পশু নির্বাচন করা উচিত। 

কোন কোন পশু রয়েছে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো বছরে খুব অল্পবার অসুস্থ হয় সে সকল পশু যাচাই-বাছাই করে কেনার চেষ্টা করুন। কারণ চিকিৎসার পেছনে যদি বেশি খরচ হয় তাহলে লাভ করা সম্ভব নয়।তবে পশু যতই সুস্থ স্বাভাবিক হোক না কেন তাদের নিয়মিত টিকা এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্ন অবস্থানে রাখলে রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।  


খাবারের ব্যবস্থা বিবেচনা করুন


পশু কেনার আগে অবশ্যই আপনাকে চিন্তা করতে হবে যে আপনি যতগুলা পশু কিনছেন তাদের জন্য নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা করতে পারবেন কিনা? কিছু পশুর জন্য বেশি পরিমাণে খাবার প্রয়োজন হয়। কিছু পশু স্থানীয় খড়,ঘাস ও সহজলভ্য খাবারে ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে আবার কিছু পশুর জন্য বিশেষ খাবারের প্রয়োজন হয়।

পশু পালনে খাদ্যর পেছনে অনেক বড় মাপের বাজেট রাখতে হয় ।আপনার পশু অনুযায়ী যদি আপনি ঠিক খাদ্যের যোগান দিতে না পারেন তাহলে পশুর বৃদ্ধি কমে যেতে পারে। খামারে দ্রুত বংশবৃদ্ধি বা প্রজনন ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য খাদ্যের ভূমিকা অপারেশন অপরিসীম।

যেমন আপনার যদি গরু -ছাগল অথবা ভেড়া জাতীয় পশু খামারের জন্য টার্গেট হয় তাহলে আপনাকে অবশ্যই গরু-ছাগল এবং ভেড়ার খাদ্য সম্পর্কে জানতে হবে ।তারা কি জাতীয় খাদ্য খেলে দ্রুত বৃদ্ধি পাবে, কি জাতীয় খাবার সহজলভ্য এবং সহজেই পাওয়া যাবে কিনবা আপনার হাতের নাগালে ঘাসের সংগ্রহ আছে কিনা সেই দিকে নজর দিন। 

আবার আপনার যদি হাঁস ,মুরগি, কোয়েল পাখি, কবুতর ইত্যাদি পাখি জাতীয় পশু দিয়ে খামার করার চিন্তাভাবনা থাকে তাহলে সে অনুযায়ী আপনাকে খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে । খাবারের পেছনে অনেক বড় বাজেট রাখা দরকার কারণ পশুপালনে খাদ্য অত্যাবশ্য। অতএব আপনার পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি বাজেট রাখুন খাবারের পেছনে। 



পশু কেনার সময় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিন

আপনি যদি পশুপালনে নতুন হন তাহলে অভিজ্ঞ খামারির বা পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন বা স্থানীয় কোন প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরে গিয়ে আপনার পরিকল্পনার কথা জানান তারা সেখানকার আবহাওয়া, পরিবেশ, রোগ বালাই ,পশুর দাম ইত্যাদি সম্পর্কে যাচাই-বাছাই করে আপনাকে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে পারবে। তারা আপনাকে যেকোনো পরিকল্পনার বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। কারণ বিশেষজ্ঞরা বা চিকিৎসকরা পশুর স্বাস্থ্য, বয়স বা উৎপাদন ক্ষমতা সম্পর্কে ভালো ধারণা দিতে পারবে।


অনুমানের উপর নির্ভর করে পশু কেনার চেয়ে একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তির সাহায্য নেওয়া ভালো। এতে করে ক্ষতির সম্ভাবনা কম থাকবে। তাই শুধু পরিকল্পনা করলেই হবে না পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করার জন্য সঠিক পরামর্শদাতা এর গাইড প্রয়োজন।

আরও পড়ুন ঃ ছোট খামারের জন্য কোন পশু ভালো
ছোট খামারের জন্য গরু, ছাগল, ভেড়া ,মুরগি ভালো হতে পারে। তবে আপনার বাজেট, জায়গা এবং খাবারের ব্যবস্থা অনুযায়ী পশু নির্বাচন করা উচিত হবে। আপনার বাজেট যদি অল্প হয় তাহলে অল্প বাজেটের পশু কিনে খামার তৈরি করা উচিত ।আর যদি আপনার বাজেট বেশি হয় তাহলে বেশি বাজেটে পশু কিনে খামার তৈরি করতে পারেন ।তবে এটা আপনার ওপর নির্ভর করবে যে আপনি কতটা পরিশ্রম করতে পারবেন।

কম পশু দিয়ে শুরু করুন  

যারা নতুন খামারি আছে তাদের অনেকের মধ্যে প্রশ্ন জাগে যে ছোট খামারের জন্য কেমন পশু নির্বাচন করা উচিত বা কতগুলো পশু খামারে রাখা উচিত। নতুন খামারিরা শুরুতে অনেক ভুল করে ফেলে যেগুলো পরবর্তীতে তাদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আপনি যদি নতুন একটি খামার দিতে চান তাহলে আপনার অনেকগুলো বিষয় সম্পর্কে জানা জরুরী।যেমন-

নতুন খামারিরা শুরুতেই অনেক পশু কিনে ফেলেন এটি অনেক সময় ঝুঁকির কারণ হতে পারে।  কারণ আপনি যদি পশু পালনে অভিজ্ঞ না হয়ে থাকেন তাহলে এত বেশি পশুর যত্ন নেওয়া কঠিন হয়ে যাবে। আপনি যদি অল্প পুঁজিতে খামার করে লাভবান হতে চান তাহলে আপনাকে অল্প পশু নির্বাচন করতে হবে। কিন্তু পাশাপাশি পশুর জাত, পশুর স্বাস্থ্য ,কোন পশু দ্রুত বৃদ্ধি পাবে,কোন পশু অল্প খাদ্যে দ্রুত বৃদ্ধি লাভ করে বা কোন পশুর খাবার সহজেই আপনি যোগান দিতে পারবেন এগুলো সব দিকে আপনার নজর দিতে হবে।

আর আপনার চিন্তাভাবনা যদি হয় যে আমি ছোট খামার দিব সেখানে কিছু সংখ্যক পশুপালন করব যেগুলা থেকে লাভবান হয়ে পরবর্তীতে আস্তে আস্তে খামারটি বড় করব এবং পশুর সংখ্যাও অধিক হবে। তাহলে আমার মতে আপনার সিদ্ধান্তটি সঠিক। কারণ কেউ একবারে সবকিছু করতে পারে না তাকে আস্তে আস্তে পরিশ্রম দিয়ে তৈরি করা লাগে তাই ছোট খামার তৈরির জন্য আপনার যেগুলো থেকে নজর দিতে হবে তা নিচে দেখে নিন।

ছোট খামারের জন্য প্রথমে অল্প পশু সিলেক্ট করুন। যেন- 
  •  আপনার যত্ন নিতে সুবিধা হয়।
  •  খরচ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
  • যেন খাদ্যের যোগান দিতে পারেন।
  •  খামারের মধ্যে পশুরা যেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নভাবে থাকতে পারে।
  •  ভুল হলে ক্ষতির পরিমাণ কম হয়।

পশুর  স্বাস্থ্য ভালো  কিনা যাচাই করুন


পশু কেনার সময় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শীর্ষে হল তার স্বাস্থ্য ।যদি পশু সুস্থ সবল থাকে তাহলে তাদের রোগবালাই কম হবে, খাবারের খেতে অসুবিধা হবে না তাহলে আপনি বাড়তি খরচ থেকে বেঁচে যাবেন।পশুকে দেখে সুস্থ মনে হলেও ভিতরে অসুস্থতা থাকতে পারে ।তাই পশু কিনার আগে ভালোভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।

 সুস্থ এবং স্বাভাবিক পশুর সাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য হলো- 
  • চলাফেরা স্বাভাবিক হবে
  • খাবারের প্রতি আগ্রহ থাকবে
  •  নাক দিয়ে স্বাভাবিকভাবে সর্দি বা পানি পড়বে না।
  • শ্বাস নিতে সমস্যা হবে না ।
  • পশুর লোম ও চামড়া স্বাভাবিক ও পরিষ্কার থাকবে।

শেষ কথাঃলেখক এর মন্তব্য
 
ছোট খামারের জন্য কেমন প্রশ্ন নির্বাচন করা উচিত? এ প্রশ্নের উত্তর আশা করি এতক্ষণে আমার আর্টিকেলটি পড়ে একটু হলেও ধারণা পেয়েছেন।ছোট খামার এর জন্য পশু নির্বাচন করার সময় শুধু বাইরের সৌন্দর্য ,বেশি উৎপাদন,লাভ ইত্যাদি বিষয়ের কোথা চিন্তা করা উচিত নয়। পশুর স্বাস্থ্য, বয়স ,উৎপাদন ক্ষমতা আপনার এলাকার পরিবেশ ইত্যাদি বিবেচনা করে পশু নির্বাচন করা প্রয়োজন।


আর নতুন খামেরের জন্য সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত হচ্ছে কম পশু দিয়ে খামের শুরু করা। যেন সঠিক পরিকল্পনা ,নিয়মিত যত্ন বা সঠিক চিকিৎসা দিতে পারেন। আর যদি আমার আমার মতামত জানতে চান যে ছোট খামারের জন্য কেমন পশু নির্বাচন করা? উচিত তাহলে আমি বলব আগে আপনার বাজেটের দিকে নজর দিন ।আপনার বাজেট যদি কম হয় তাহলে কম বাজেটের পশু বা পাখি যেমন- হাঁস ,মুরগি, কোয়েল পাখি ,কবুতর, খরগোশ ইত্যাদি আপনার খামারের জন্য ভালো হবে। আর যদি আপনার বাজেট নিয়ে কোন চিন্তা না থাকে তাহলে আমি বলব আপনি একটা ভালো বাজেট যদি রাখেন তাহলে ভালো কিছু করা সম্ভব। আপনার বাজেট বেশি হলে আপনি গরু, ছাগল, ভেড়া ইত্যাদি পশু নির্বাচন করতে পারেন।


"পরিশেষে একটা কথাই বলবো যে ভালো কিছু শুরু করার আগে সঠিক পরিকল্পনা বা গাইডলাইন প্রয়োজন আবার শুধু পরিকল্পনা বা গাইডলাইন থাকলেই হবে না সে অনুযায়ী আপনাকে পরিশ্রম করতে হবে ।আপনার পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করার চেষ্টা করতে হবে তবেই না আপনি সফল হতে পারবেন!!!?"😊😊






এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

নুভিয়া নেস্ট নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url