অল্প পুঁজিতে লাভজনক ও সহজ ব্যবসার আইডিয়া
বর্তমান চাকরির বাজারে অনেক প্রতিযোগিতা। এ সকল কথা মাথায় রেখে অনেকেই নিজে কিছু
করতে চায়। চাকরি হচ্ছে অন্যের গোলামী করা আর ব্যবসা হচ্ছে স্বাধীন পেশা।যারা
স্বাধীনভাবে কিছু করতে চান তারা ব্যবসা কে বেছে নেয়। বর্তমান সময়ে অনেকেই
চাকরির পেছনে ছোটাছুটি করে ব্যর্থ হন এবং বেকারত্ব দূর করার
জন্য নিজে ব্যবসা শুরু করতে চান। কিন্তু পর্যাপ্ত পুঁজি বা মূলধন না থাকার
কারণে অনেকেই ব্যবসা করার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারে নাহ।
আপনাদেরও কি একই ধারনা?!আপনিও কি মনে করেন ব্যবসা করতে অনেক টাকার প্রয়োজন। আপনি
যদি এমনটা মনে করে থাকেন তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য। বর্তমানে অল্প
পুঁজিতে অনেক ব্যবসা শুরু করা যায় এবং সেখান থেকে ভালো প্রফিট করা সম্ভব।
আমার এই আর্টিকেলে কিভাবে অল্প পুজিতে লাভজনক ও সহজ ব্যবসা করা যায় তা নিয়ে
আলোচনা করছি।
সূচিপত্রঃঅল্প পুঁজিতে লাভজনক ও সহজ ব্যবসার আইডিয়া
- অনলাইনে পণ্য বিক্রি
- রাস্তার পাশে ফাস্টফুডের এর দোকান
- হোমমেড খাবার বা কুকিং সেবা
- কফি শপ
- ফ্রেশ জুসের দোকান
- হোমমেড কেকের বিজনেস
- ইউটিউব ও ব্লগিং
- হস্তশিল্প তৈরি ও বিক্রি
- আধুনিক কৃষি খামার
- কাস্টম টি শার্ট ব্যবসা
- ফটোগ্রাফি ব্যবসা
- নার্সারি ও গাছ বিক্রি
- পশু খামার
- লেখকের মন্তব্যঃ
অনলাইনে পণ্য বিক্রি
বর্তমানে অনলাইন বিজনেস খুবই জনপ্রিয় একটি প্ল্যাটফর্ম ।এখন ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ,টিক টক এবং ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইনে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে লাভজনক ব্যবসা করা যায়। বর্তমান যুগ হচ্ছে অনলাইনের যুগ ।এখন মানুষ অনলাইনে কেনাকাটা করতে বেশি পছন্দ করে ।ছোট থেকে বড় সবাই দোকানে গিয়ে পন্য কেনার চেয়ে ঘরে বসে দেখে শুনে অনলাইনে অর্ডার করতে বেশি পছন্দ করে।
আপনি অনলাইনে খুব অল্প পুজিতেই একটি বিজনেস শুরু করতে পারবেন। এমন কিছু পণ্য বিক্রি করুন যেগুলোর চাহিদা বর্তমানে বেশি। যেমন- পোশাক, কসমেটিক্স ,গেজেট, খাবার,হোম ডেকর পণ্য, ইত্যাদি বিক্রি করতে পারেন। অনলাইনে ব্যবসা করার অনেক সুবিধা রয়েছে। যেমন-
- আপনার দোকান ভাড়া নেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
- অল্প পুঁজিতে বা অল্প খরচে ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।
- নির্দিষ্ট স্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সারাদেশের গ্রাহকের কাছে আপনার প্রোডাক্ট পৌঁছানো সম্ভব।
রাস্তার পাশে ফাস্টফুডের এর দোকান
এই দেশ এর মানুষ খাদ্যরসিক।আপনার যদি ফাস্ট ফুড আইটেম সম্পর্কে ধারনা থাকে তাহলে একটি ছোট ফুডকাট দিতে পারেন।আপনি একা দোকান সামলাতে না পারলে ১/২ টা পাটনার নিয়ে শুরু করতে পারেন। বর্তমানে রাস্তার পাশের ফাস্টফুডের এর দোকানের খাবার জনপ্রিয়তার শীর্ষে ।রেস্টুরেন্ট এর তুলনাই এই দোকান গুলোর খাবারের দাম কম হওয়াই সবাই খেতে পারে।রাস্তার পাশে ফাস্টফুডের এর দোকান দেওয়ার সুবিধা হলো-
- দোকান ভাড়া নেওয়ার প্রয়োজন হয়না।
- দোকানে বেশি কর্মচারীর প্রয়োজন হয়না।
- অল্প পুঁজিতে শুরু করতে পারবেন।
- রেস্টুরেন্ট এর মত অনেকগুলা আইটেম দিয়ে শুরু করার প্রয়োজন হয় না।
- কিছু সিগনেচার আইটেম দিয়ে শুরু করতে পারবেন।
হোমমেড খাবার বা কুকিং সেবা
আপনি যদি রান্না পারেন আর বাইরে গিয়ে কিছু করতে দ্বিধাবোধ করেন তাহলে অনলাইনে হোমমেড খাবার বিক্রি আপনার জন্য বেস্ট অপশন হতে পারে। বর্তমানে বাসায় বসে নিজের মত রান্না করে আপনি অনলাইনে বিক্রি করে ভালো টকা উপার্জন করতে পারবেন।প্রথমে ছোট পরিসরে শুরু করে পরবর্তীতে নিজের রেস্টুরেন্ট বা ক্যাফে করতে পারবেন।
এই বিজনেস করার জন্য আপনার একটি পেজ বা ওয়েবসাইট খোলা লাগবে যেখানে আপনি আপনার হোমমেড খাবারের ছবি অথবা ভিডিও দিয়ে প্রচার করবেন যে আপনি হোমমেড খাবার সেল করেন। তারপরে কাস্টমাররা আপনার পাঠানো খাবারের ছবি অথবা ভিডিও দেখে খাবার অর্ডার করলে আপনি তাদেরকে খাবার ডেলিভারি দিবেন।এই ব্যাবসার মাধ্যমে যখন পরিচিতি লাভ করবেন তখন বড় একটি রেস্টুরেন্ট দিতে পারবেন ।
কফি শপ
বর্তমানে কফি একটি জনপ্রিয় পানীয় খাবার। কফি আমাদের ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে ।কফি শপ দিতে খুব বেশি পুঁজির প্রয়োজন নেই। আপনি অল্প টাকা দিয়ে ছোট পরিসরে কফি শপ দিতে পারবেন। সাথে আপনি চা ,বিস্কিট বা পোড়া রুটি ইত্যাদি রাখতে পারেন। আপনি যেহেতু অল্প পুঁজিতে ব্যবসা করতে যাচ্ছেন তাই আপনি প্রথমে স্ট্রল বা রাস্তার পাশে ছোট দোকান দিতে পারেন ।
যখন আপনার পরিচিতি বাড়বে এবং মুনাফা হবে তারপরে আপনি সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি ভালো ক্যাফে দিতে পারবেন। এতে করে প্রথম থেকেই আপনার কাস্টমার থাকবে আর আপনার দোকানের সম্ভাবনা খুব কম হবে আর আপনি যদি স্টুডেন্ট বা জব করে থাকেন তাহলে পার্ট টাইম জব হিসেবে কফি শপ দিতে পারেন। এটা আপনার জন্য বেস্ট অপশন হবে।
ফ্রেশ জুসের দোকান
আপনি রাস্তার পাশে একটি ছোট ফুড কার্ড দিতে পারেন যেখানে ফ্রেশ ফ্রেশ ফলের জুস বিক্রি করতে পারেন। বর্তমানে এই ফ্রেশ জুস সবাই পছন্দ করে। আপনি আপনার দোকানে ফ্রেশ কিছু ফল রাখবেন যেমন- আপেল ,কমলা ,তরমুজ ,আনারস ,আম ,ড্রাগন ইত্যাদি। আপনি আপনার মত করে জুস রেডি করে প্যাকেজিং করে বিক্রি করতে পারবেন।
আপনার প্যাকেজিং যদি ইউনিক হয় তাহলে কাস্টমার আপনার প্রোডাক্টের উপরে আগ্রহ
দেখাবে এবং আপনার সেল বেশি হবে। যেহেতু আপনি হেলদি খাবার বিক্রি করবেন আপনাকে
হাইজিন এর দিকে খেয়াল রাখতে হবে।আপনি জুসকে প্রিমিয়াম করতে একটি বোতলে আপনার
দোকানের নাম দিয়ে সিল করতে পারেন বা স্টিকার ব্যবহার করতে পারেন।
হোমমেড কেকের বিজনেস
বর্তমানে বেশির ভাগ মেয়েরা এই হোমমেড কেকের বিজনেসকে প্রফেশনাল ভাবে নিচ্ছেন।কেক বানানো অনেক সহজ কাজ। আপনি যদি না পারেন তাহলে শিখে নিন তারপর বিজনেস শুরু করুন।এই বিজনেসের জন্য বেশি পুঁজির প্রয়োজন নেই।ঘরে বসে নিজের স্কিল দেখিয়ে টকা আয় করা সম্ভব এই বিজনেস এর মাধ্যমে।
আপনি কেক বিক্রির পাশাপাশি চকলেট,বিস্কুট,পুডিং,কাপ কেক,ইত্যাদি বিক্রি করতে পারেন।শুধু মেয়েরাই নয় বর্তমানে সেলেরাও কেক এর বিজনেস করছেন।সিদ্ধান্ত আপনার, আপনি কি বসে থাকবেন নাকি কিছু করতে চাচ্ছেন। অল্প পুঁজিতে এই বিজনেস আপনার জন্য ভালো অপশন হতে পারে।
ইউটিউব ও ব্লগিং
বর্তমানে ব্লগিং প্ল্যাটফরম একটি জনপ্রিয় আয়ের উৎস।যেকোনো বয়সের বা যেকোনো পরিবেশ এর মানুষ ইউটিউব বা ফেসবুকে কনটেন্ট বানিয়ে সহজেই পরিচিতি পাচ্ছে এবং ভালো অংকের টাকা আয় করছে।আপনার যদি কথা বলার প্রতিভা থাকে তাহলে আপনি ইউটিউব ও ফেসবুক এ ব্লগিং করতে পারবেন।
আপনার ইচ্ছেশক্তি থাকলে সব সম্ভব পাশাপাশি পরিশ্রম করতে হবে।পরিশ্রম না করে যদি বসে বসে ভাবেন আপনি টাকা আয় করবেন তাহলে স্বপ্ন স্বপ্নই থাকবে বাস্তবিত আর হবে না। তাই পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যান ও পরিশ্রম করুণ তখনি জীবনে ভালো কিছু সম্ভব হবে।
হস্তশিল্প তৈরি ও বিক্রি
হস্তশিল্প বলতে সাধারনত আমরা হাতের কাজকেই বুঝি। মানুষ এর অনেক প্রতিভা আছে হস্তশিল্প তার মধ্যে অন্যতম প্রতিভা।তাই আপনার যদি হস্তশিল্প বা হাতের কাজ এর অভিজ্ঞতা থাকে তাহলে আপনি তা কাজে লাগিয়ে আপনার আয় এর পথ তৈরি করতে পারেন। গহনা,পোশাক,নকশীকাঁথা,শোপিচ ইত্যাদি হাতের কাজ জানা থাকলে আপনি বিক্রি করে আয় করতে পারবেন সহজেই।
আপনি যদি নাও পারেন তাহলে কর্মচারী বা পাটনার রাখতে পারেন যারা এই বিষয়ে অভিজ্ঞ ।আপনি ঘরে বসেই অল্প পুঁজিতে হস্তশিল্প তৈরি ও বিক্রি করে নিজের ব্যাবসা শুরু করতে পারবেন।আপনি ছোট দোকান দিয়ে অথবা দোকান দেওয়ার যদি টাকা না থাকে তাহলে অনলাইনে একটি পেজ খুলে আপনার বিজনেস শুরু করতে পারেন।
আধুনিক কৃষি খামার
বর্তমান সময়ে জমিতে আবাদ না করেও যে আধুনিক কৃষি খামার করা সম্ভব তা হয়তো আপনি
জানেন। বাসা বাড়িতে এখন ছাদ বাগানে অনেক সবজি চাষ করা যায় অথবা ফুলের গাছ বা
নার্সারি করা যায়। এতে করে আপনার জমির প্রয়োজন হবে না অল্প পরিসরে শুরু করতে
পারবেন। ছাদ বাগানে অনেক সবজি যেমন- মরিচ, বেগুন, করলা ,বরবটি ,শশা, লাউ ,মিষ্টি
কুমড়া ,কুমড়া ইত্যাদি জাতীয় সবজি আপনি অল্প পুঁজিতে চাষ করতে
পারবেন।
আবার আপনার ছাদ বাগানের জায়গা যদি অল্প হয় তাহলে আপনি মাশরুমের চাষ করতে পারেন। বর্তমানে মাশরুমের চাহিদা অনেক। এটি অল্প জায়গায় চাষ করা যায় এবং বেশি লাভজনক ব্যবসা। খুব একটা পুঁজি বা পরিশ্রমের প্রয়োজন হয় নাহ। বিভিন্ন রেস্তোরায় এই মাশরুমের চাহিদা অনেক বেশি। রেস্তোরায় বিক্রি করে ভালো পরিমাণের টাকা পেতে পারবেন। মাশরুম আমাদের শরীরের জন্য ভালো। বর্তমান প্রায় অনেক খাবারে মাশরুম ব্যবহার করে । আপনি যদি বাড়িতে বসে আধুনিক খামারের চিন্তা ভাবনা করে তাহলে মাশরুম চাষ আপনার জন্য অপশন হতে পারে।
কাস্টম টি শার্ট ব্যবসা
কাস্টম বলতে সাধারনত আমরা বুঝি প্রয়োজন অনুযায়ী বা পছন্দ অনুযায়ী কোন কিছু তৈরি করে নেওয়া। কাস্টম টি-শার্ট বলতে আমরা বুঝি টি-শার্টের ওপরে কোন ছবি , নাম ,লোগো, সিগনেচার,বিশেষ কোন ডিজাইন ইত্যাদি যে কোন কিছু দিয়ে টি শার্ট কাস্টোমাইজ করে নেওয়া । বর্তমানে কাস্টম টি-শার্ট এর ব্যবসা হচ্ছে লাভজনক এবং অল্প পরিসরে শুরু করার মত ব্যবসা।
যেহেতু কাস্টমাররা তাদের পছন্দ অনুযায়ী টিশার্ট তৈরি করে নিতে পারেন তাই এই ব্যবসাতে লাভ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। শুরু করতে আপনার যেগুলো প্রয়োজন হবে
- প্রথমে ভালো মানের সংগ্রহ করুন।
- বিভিন্ন ডিজাইন সম্পর্কে ধারণা নিন।
- নিজে ডিজাইন করার জন্য CANVA বা অন্য সফটওয়্যারের সাহায্য নিতে পারেন।
- প্রথমে নিজের প্রিন্টিং মেশিন যদি কিনতে না পারেন তাহলে কোন প্রিন্টিং সার্ভিসের মাধ্যমে টি-শার্ট তৈরি করে ব্যবসা শুরু করতে পারেন ।
- আপনি ফেসবুক, ইনস্ট্রাগ্রাম অথবা ইউটিউব এ একাউন্ট খুলে ডিজাইনের ছবি প্রকাশ করতে পারেন যেখান থাকে অর্ডার নিতে পারবেন।
- ছোট ছোট অর্ডারের পাশাপাশি কোন ইভেন্ট স্কুল কলেজ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বড় বড় অর্ডার নেওয়ার চেষ্টা করবেন।
ফটোগ্রাফি ব্যবসা
আপনার যদি ছবি তোলার দক্ষতা থাকে তাহলে সেটিকে কাজে লাগিয়ে ফটোগ্রাফির ব্যবসা
করতে পারেন। বর্তমানে বিয়ে, জন্ম দিন, পন্য, ব্যক্তিগত ফটোশুট ,পারিবারিক
অনুষ্ঠান বা সামাজিক অনুষ্ঠানে ছবি তোলার জন্য বিভিন্ন ফটোগ্রাফারের প্রয়োজন হয়
।তখন তারা ফটোগ্রাফার হায়ার করে এবং ভালো পরিমানে একটি অ্যামাউন্ট পে করে ।ছবি
তোলার পাশাপাশি ভিডিওগ্রাফি, অ্যালবাম তৈরি বা ভিডিও এডিটিং ইত্যাদি শিখে রাখতে
পারেন ।এই ব্যবসার জন্য যেগুলো মাথায় রাখতে পারেন-
- আপনি যে ক্যামেরা দিয়ে ছবি উঠাবেন তার ব্যবহারগুলো জানুন।
- আপনি যদি প্রথমে ক্যামেরা কিনতে না পারেন তাহলে নিজের মোবাইল দিয়েও চেষ্টা করতে পারেন।
- প্রথমত নিজের পরিচিতদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ছবি তুলে নিজেকে যাচাই করতে পারেন।
- পাশাপাশি সব ছবিগুলোকে এডিটিং বা কালার করে আপনার দক্ষতা যাচাই করতে পারেন।
- আপনি যদি এটিকে অনলাইনে প্রচার করতে চান তাহলে Facebook অথবা Instagram এ আপনার পেজ খুলে সেখানে আপনার কাজগুলো তুলে ধরতে পারেন।
- আস্তে আস্তে আপনার যখন দক্ষতা বাড়বে তখন আপনি বড় বড় অনুষ্ঠানে ফটোগ্রাফির কাজ করতে পারবেন।
নার্সারি ও গাছ বিক্রি
গাছের প্রতি প্রতি মানুষের আগ্রহ বা চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে অল্প পুঁজিতে একটি নার্সারি ব্যবসা শুরু করতে পারেন। নার্সারির ভেতরে বিভিন্ন ধরনের গাছ যেমন ফুলের গাছ ,ফলের গাছ ,শোভা বর্ধক গাছ, ঔষধি গাছ ,ইন্ডোর প্ল্যান্ট ,সবজি গাছ ইত্যাদি রাখতে পারেন ।আপনি যদি গ্রামে থেকে থাকেন তাহলে আপনার আশেপাশে থাকা জায়গায় আপনি সহজেই এই নার্সারি করতে পারবেন ।আর আপনি যদি শহরে থাকেন তাহলে ছাদ ছোট পরিসরে শুরু করতে পারেন। ছোট টব এর মধ্যে গাছ লাগান যা দেখতে ভালো লাগে এবং বিক্রি করতেও সুবিধা হয়। তবে ভেতরে মাটি এবং জৈব সার দিন। আপনার এই ব্যবসা শুরু করার জন্য যেগুলো করতে হবে-
- বিভিন্ন গাছ সম্পর্কে জানুন।
- যে সকল গাছের চাহিদা বেশি সে সকল গাছ বেশি রাখার চেষ্টা করুন।
- আপনি চারা গাছ বিক্রি করতে পারেন আবার চারা গাছকে পরিচর্যা করে বড় করেও বিক্রি করতে পারেন।
- গাছের পরিচর্যা সম্পর্কে ভালোভাবে জানা।
- গাছের সঙ্গে আপনি টব, বিভিন্ন সার ,উর্বর মাটি ইত্যাদি বিক্রি করতে পারবেন।
- আপনি অফলাইনে ব্যবসা করার পাশাপাশি অনলাইনেও নিজের ব্যবসা দাঁড় করাতে পারবেন।
পশু খামার
যদি আপনাদের বাড়ির আশেপাশে জায়গায় থাকে সেখানে ছোট পরিসরে খামার শুরু করতে
পারেন। খামারে বিভিন্ন পশু রাখতে পারবেন যেমন- গরু-ছাগল ,ভেড়া , ইত্যাদি। তবে
খাবার শুরু করার আগে আগে নির্বাচন করুন আপনি কোন পশু দিয়ে খামার তৈরি করতে
চাচ্ছেন এবং এই পশু থেকে কোন উপায়ে টাকা আয় করতে চাচ্ছেন। যেমন যদি আপনি গরু
লালন পালন করার কথা ভাবেন তাহলে গরু থেকে আয় করার অনেক উপায় আছে ।যেমন- আপনি
যদি খামারে গাভী রাখেন তাহলে সেখান থেকে দুধ বিক্রি করে ভালো আয় করতে
পারবেন। আবার গরুর মাংস বিক্রি করেও টাকা আয় করতে পারবে।গরুর বাচ্চা বিক্রি করেও
আয় করতে পারবেন।
আর যদি মনে করেন যে গরু ছাগল এগুলো কেনার জন্য এত টাকা আপনার কাছে নেই
তাহলে আপনি ছোট পরিসরে হাঁস, মুরগি ,কবুতর, কোয়েল পাখি ইত্যাদি দিয়ে শুরু করতে
পারেন ।এতে আপনার পুঁজি কম লাগবে । আপনার বাজেট অনুযায়ী পরিকল্পনা করুন যে আপনার
খামারে কেমন পশু রাখতে চান। সেই পশু সম্পর্কে জানুন খাবারের ব্যবস্থা করুন।
লেখকের মন্তব্যঃ
ব্যবসা শুরু করার জন্য খুব বেশি পুঁজির প্রয়োজন হয় না ।অল্প পরিসরে ব্যবসা শুরু
করে সফল ব্যবসায়ী হওয়া যায়। সফল ব্যবসায়ী হওয়ার জন্য আপনাকে সঠিক পরিকল্পনা
করতে হবে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিশ্রম করতে হবে। আপনি অফলাইনে ব্যবসার
পাশাপাশি অনলাইনে ব্যবসা করতে পারবেন।
কোন ব্যবসাতে ১০০% লাভ নিশ্চিত নয় তবে আপনাকে সুন্দর পরিকল্পনা করে সে অনুযায়ী
পরিশ্রম করতে হবে। মনে রাখবেন পরিশ্রম সাফল্যের চাবিকাঠি ।ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু
করলে ঝুকির পরিমাণ কম থাকে ।আমার এই আর্টিকেলে আমি অল্প পুঁজিতে লাভজনক ও সহজ
ব্যবসায় আইডিয়া তুলে ধরার চেষ্টা করেছি এখন সিদ্ধান্ত আপনার আপনি সাহস
করে অল্প পুজিতে ব্যবসা শুরু করবেন নাকি বসে থাকবেন।

নুভিয়া নেস্ট নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url