স্মার্টফোন কেনার আগে যেসকল বিষয় অবশ্যই জানা দরকার

   


বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে জড়িত। এখন ফোন শুধু কথা বলা ছাড়াও অনেক কাজে ব্যবহার করা হয়।যেমন- ছবি তোলা,ভিডিও করা,গেম খেলা,সারা বিশ্বের খবর জানা,অনলাইন এ বিসনেস, কন্টেন্ট তিরি করা,বিনোদন, শিক্ষা, ইত্যাদি ।বর্তমানে হাতে থাকা ফোন আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করে তুলেছে।


স্মার্টফোন-কেনার-আগে-যেসকল-বিষয়-অবশ্যই-জানা-দরকার


বাজারে অসংখ্য ফোনের ব্র্যান্ড ও বিভিন্ন মডেল মাঝে সঠিক ফোন বাছাই করা কঠিন বিষয়।তাই ফোন কেনার আগে শুধু  বিভিন্ন অ্যাড বা বাইরের চাকচিক্য দেখে ফোন কেনা থেকে বিরত থাকুন।কেউ এ নির্দিষ্ট সময় বা ১/২ বছর ব্যবহার এর জন্য ফোন কিনেনা সবাই চাই ফোনের ভালো পারফরম্যান্স । আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ফোন বাছাই করতে আমার এই আর্টিকেল আপানকে সাহায্য করবে বলে আশা করছি।


সূচিপত্রঃস্মার্টফোন কেনার আগে যে সকল বিষয় অবশ্যই জানা দরকার 



প্রথমত আপনার বাজেট নির্ধারণ করুন


সর্বপ্রথম ফোন কেনার আগে আপনার বাজেট কত তা নির্ধারণ করুন।কারন বাজেট অনুযায়ী ফোনের ফিচার ,ফোনের র‍্যাম,স্টোরেজ ইত্যাদি পরিবর্তিত হয়। কম বাজেটেও ভালো ফোন পাওয়া যাই তবে এটি আপনার প্রয়োজন এর ওপর নির্ভর করে।আপনার চাহিদা যদি বেশি হয় তাহলে বাজেট বাড়িয়ে ফোন কেনাই উত্তম।
 
কম বাজেট এর ফোন কাজের জন্য উপযুক্ত হলেও বেশি দামের ফোন এ উন্নত মানের ক্যামেরা,শক্তিশালী প্রসেসর, ভালো মানের ডিসপ্লে,স্টোরেজ বেশি থাকে।তাই আপনার প্রয়োজন ও সামর্থ্য এর দিকে বিবেচনা করে বাজেট ঠিক করুন। 


প্রসেসর পারফরম্যান্স যাচাই করুন


আপনার স্মার্টফোনটির পারফরমেন্স কেমন হবে তার বেশিরভাগ নির্ভর করে ফোনে থাকা প্রসেসরের ওপর। প্রসেসরকে যেকোনো ডিভাইসের মস্তিষ্ক বলা হয় । প্রসেসর যদি ভাল হয় তাহলে ফোন দ্রুত  কাজ করবে ।আপনার ফোনে একসঙ্গে অনেকগুলো কাজ বা অনেকগুলো অ্যাপ চালাতে পারবেন কিনা বা হেভি গেমিং খেলা যাবে কিনা সবকিছু নির্ভর করে প্রসেসরের পাশাপাশি চিপসেট এর উপর।


চিপসেট হচ্ছে একটি বড় সিস্টেম যার মধ্যে প্রসেসর সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশ থাকতে পারে।বর্তমানে কিছু জনপ্রিয় চিপসেট হলো-Google Tensor, Apple  Bionic, Qualcomm Snapdragon এবং  MediaTek  Dimensity.  তাই ফোন কেনার আগে ফোনে থাকা এই প্রসেসরের উপর বিশেষ নজর দিন। আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনটি আসলে কতটা স্মার্ট তা নির্ভর করে এই প্রসেসর আর চিপসেট এর ওপর। 


ব্যাটারি ব্যাকআপ চেক করুন


আপনার হাতে থাকা ফোনটি কতক্ষণ চলবে তা নির্ভর করে ফোনের ব্যাটারির উপর। সারাদিন আপনার ফোনটি ব্যবহার করার জন্য অন্তত ৫,০০০ এম এ এইচ (mAh) সম্পূর্ণ ব্যাটারির ফোন কিনুন। ব্যাটারির পাশাপাশি ফোনের চার্জ সম্পর্কে জানুন।ফোনটিতে ফাস্ট চার্জিং মানে দ্রুত চার্জ এর আছে কিনা যাচাই করুন।

ফোনের ব্যাটারি যদি ভালো হয় তাহলে ফোনের চার্জ ও দ্রুত হবে যা আমাদের ব্যাস্ত জীবনের জন্য ভালো ।ফোন কতদিন ভালো থাকবে তার বেশিরভাগই নির্ভর করে  ব্যাটারির ওপর। তাই ফোন কেনার আগে ফোনের ব্যাটারি লাইফ সম্পর্কে অবশ্যই জেনে নিবেন।

ক্যামেরা কুয়্যালিটি দেখুন

নতুন ফোন কিনবে আর ছবি উঠাবে না এমন মানুষ খুব কমই আছে। আর ছবি উঠানোর জন্য ফোনের ভালো ক্যামেরার প্রয়োজন। অনেকেই শুধু মাত্র ফোনের মেগাপিক্সেল দেখে ফোন কিনার সিদ্ধান্ত নেয় যা সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নাও হতে পারে । সফটওয়্যার অপটিমাইজেশন, ভিডিও রেকর্ডিং ক্ষমতা,ক্যামেরার সেন্সর,ইমেজ প্রসেসিংয়ের মানও ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

তাই ফোন কেনার আগে ফোনটির ক্যামেরার নমুনা ছবি বা ক্যামেরার রিভিউ দেখে ফোন কেনার সিদ্ধান্ত নিন। ফোন কেনার পরে যদি ফোনের ক্যামেরা ভাল না হয় ছবি ভালো না আসে তাহলে ফোন কেনা বৃথা মনে হবে।  অনেকেই আছে যারা ছবি তুলতে পছন্দ করে তাদের জন্য তো অবশ্যই ক্যামেরা চেক করে ফোন কেনা উচিত। তাই শুধু ফোনের মেগাপিক্সেল বা অন্যান্য সাইড সম্পর্কে জানার পাশাপাশি ক্যামেরা সম্পর্কে জানুন।

র‍্যাম ও স্টোরেজ কত জানুন 


আপনার ফোনটিকে যদি কিছু নির্দিষ্ট অ্যাপস এর মধ্যে সীমাবদ্ধ করে না রাখতে চান তাহলে আপনার বেশি র‍্যামের ফোন কেনা উচিত। কারণ বর্তমান সময়ে অ্যাপস এর সাইজ, ও বিভিন্ন গেমিং অ্যাপস এর জন্য ৬ জিবি র‍্যাম প্রয়োজন।তবে ৬ জিবি এর বেশি কিনলে ভাল হয় ।মনে রাখবেন আপনার ফোনের র‍্যাম যত বেশি ফোনের ধারন ক্ষমতাও তত বেশি ।


আপনার ফোনে ছবি, ভিডিও বা অ্যাপস রাখার জন্য অন্ততপক্ষে ১০ জিবির বেশি অথবা ১২ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ বেছে নিন। আর আপনার যদি বাজেট বেশি থাকে তাহলে তার চেয়ে বেশি নিলে ভালো হয় ।স্টোরেজ ফুল হয়ে গেলে আলাদা মেমোরি কার্ড ব্যবহারের সুবিধা আছে কিনা তা জানুন।


ডিসপ্লে এর সাইজ দেখুন 

স্মার্ট ফোন কেনার আগে ফোনের ডিসপ্লে বা স্ক্রিনের সাইজটি দেখে কেনা উচিত। এখন বড় স্ক্রিনের বা বড় ডিসপ্লে সাইডে মোবাইল ফোন বেশি জনপ্রিয় ।তবে আপনার পছন্দ অনুযায়ী আপনি ডিসপ্লে সাইজ সিলেক্ট করবেন। বেশি বড় ডিসপ্লে হলে ফোনের চার্জ বেশি কাটে। অ্যামোলেড (AMOLED)   ডিসপ্লে ভিডিও দেখার জন্য এবং ব্যবহারের জন্য সুবিধাজনক।

এই AMOLED বা OLED ডিসপ্লে LCD ডিসপ্লে এর তুলনায় প্রিমিয়াম অর্থাৎ বেশি রঙ্গিন ও উজ্জ্বল হয়ে থাকে। ফোনের রিফ্রেশ রেট যদি ৯০ HZ বা ১২০ HZ হয় তাহলে ফোনের স্ক্রলিং ও গেমিং স্মুথ হবে।তাই একটি ভালো ফোন নির্বাচন এর জন্য ফোনের ডিসপ্লে দেখে কেনা উচিত।


নেটওয়ার্ক সুবিধা কেমন

আপনার হাতে থাকা স্মার্ট ফোনের পারফরমেন্স যতই ভালো হোক নেটওয়ার্ক সাপোর্ট যদি না থাকে তাহলে ফোনটি ব্যবহার করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে ।যদি আপনি 4G ফোন কিনেন তাহলে তাতে কি কি সুবিধা আছে তা জানুন। এটি ক্রিস্টাল ক্লিয়ার ভয়েস কলের জন্য অত্যন্ত জরুরি.

তবে ভবিষ্যতে ফোনকে  ব্যবহার উপযোগী করতে অবশ্যই 5G ফোন কেনা উচিত।আর ফোনটিতে পর্যাপ্ত 5G Brands  যেমনঃ( n1,n2,n3,n28,n78 ইত্যাদি ) আছে কিনা তা দেখুন ।ব্যান্ডের (Brands) সংখ্যা যদি ভালো হয় তাহলে নেটওয়ার্কের মান ভালো পাওয়া যায়।তাই ফোন কেনার আগে অবশ্যই আপনার ফোনে নেটওয়ার্ক সাপোর্ট কেমন হবে তা জেনে ফোন কিনুন।

ব্যান্ডের সম্পর্কে জানুন

বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ব্যান্ডের বা মডেলের ফোন রয়েছে। যে সকল ব্যান্ডের সার্ভিস সেন্টার সহজলভ্য এবং ফোন বিক্রয়ের সেবা ভালো সেই সকল ব্যান্ড থেকে ফোন কেনা তুলনামূলক নিরাপদ। কারণ কোন সমস্যা হলে দ্রুত সমাধান পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাই। ব্যান্ডের সুনাম, ব্যান্ডের প্রোডাক্ট, কাস্টমার রিভিউ ইত্যাদি সম্পর্কে আগে থেকেই খোঁজ নেওয়া উচিত।

আপনি যে ব্যান্ডের ফোন কিনতে চাচ্ছেন সেই ব্যান্ডের ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে জানুন তাদের প্রোডাক্টের কোয়ালিটি কেমন সার্ভিস কেমন তাদের কাছ থেকে প্রোডাক্ট নিয়ে কেউ কি প্রতারিত হয়েছে  কিনা তা  সম্পর্কে জানুন। শুধু কারো মুখের কথা বা ব্যান্ডের  সুনাম দেখেও প্রোডাক্ট কেনা উচিত নয় আগে নিজে যাচাই বাছাই করুন তারপরে প্রোডাক্ট সিদ্ধান্ত নিন। 

 রিভিও যাচাই করুন 


আমরা যে কোন প্রোডাক্ট কেনার আগে যেমন কাস্টমারদের রিভিউ চেক করি যে আসলেই প্রোডাক্টটি আমার জন্য কার্যকারী কিনা বা ভালো হবে কিনা। তেমনি ফোন কেনার ক্ষেত্রে আপনার কাস্টমারের রিভিউ চেক করা উচিত। কারণ সব কাস্টমার যে ভালো সার্ভিস পাবে এমনটা নাও হতে পারে। তাই আগে রিভিউ দেখুন তারপরে ফোন কেনার সিদ্ধান্ত নিন ।

যদি দেখেন যে ১০০ জনের মধ্যে ৯০ জনের রিভিউ ভালো আছে তাহলে সেই ব্যান্ডের প্রোডাক্ট আপনি কিনতে পারেন। আর যদি দেখেন যে প্রায় ১০০ জনের মধ্যে ৯০ জনের রিভিউ খারাপ তাহলে সেই ব্যান্ডের ফোন কেনা থেকে বিরত থাকুন। তাই ভালো ফোন বাছাই করার জন্য আপনার অবশ্যই কাস্টমার রিভিউ দেখা উচিত।


ওয়ারেন্টি দেখুন


স্মার্টফোন কেনার সময় ওয়ারেন্টি পলিসি সম্পর্কে জানা উচিত কারণ এটি আপনার পছন্দের ফোনটিকে যে কোন সময় নষ্ট হওয়া বা হঠাৎ ত্রুটি থেকে রক্ষা করবে। অফিসিয়াল ব্যান্ডের অনুমোদিত শোরুম থেকে ফোন কিনলে ওয়ারেন্টি পাওয়া যায়। কোম্পানির আওতায় ফোনের যেকোনো ধরনের ত্রুটি থাকলে কোম্পানি বিনামূল্যে তা মেরামত করে দেয়। 


আমাদের বাংলাদেশে সাধারণ সার্ভিস ওয়ারেন্টি ১ বছর দিয়ে থাকে এবং ব্যাটারি অথবা চার্জারের জন্য ৬ মাসের ওয়ারেন্টি দেয়। ওয়ারেন্টি সাধারণত কিছু শর্তের উপরে দেয়া থাকে। যেমনঃ-


  • ফোনের ভেতরে থাকা প্রসেসর, ডিসপ্লে বা মাদারবোর্ড যদি কোন আঘাত ছাড়া নিজে থেকেই কাজ করা বন্ধ করে দেয়।
  • নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে যদি ব্যাটারির সমস্যা দেখা দেয় বা  চার্জার নষ্ট হয় (যদি কোম্পানির নিয়ম থাকে)।
  • সফটওয়্যাররে যদি কোন বড় সমস্যা হয়।

আবার ওয়ারেন্টি বাতিল হওয়ার কিছু শর্ত থাকে। যেমনঃ -


  • হাত থেকে যদি ফোন পড়ে গিয়ে স্ক্রিন ভাঙ্গে বা ফোনের বডিতে আঘাত লাগে।
  • ফোন পানিতে পড়ে ভিতরে পানি ঢুকলে।(ওয়াটার প্রুভড ফোনের জন্য এই নিয়ম নাও থাকতে পারে)।
  • অনুমোদিত কোম্পানির সার্ভিস সেন্টার ছাড়া বাইরের কোন লোকাল দোকানে যদি ফোন খুলে মেরামত করা হয়।

লেখক এর মন্তব্যঃ


ফোন কেনার আগে যে সকল বিষয় অবশ্যই জানা দরকার তা জেনে যাচাই-বাছাই করে ফোন কেনার সিদ্ধান্ত নিন। কারণ বর্তমানে বিভিন্ন ব্যান্ডের বা মডেলের ফোনের মধ্যে আপনার জন্য কোনটি সঠিক হবে তা নির্বাচন করা সহজ নয়। বর্তমানে ফোন শুধু কথা বলার জন্যই নয় আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে এটি সরাসরি জড়িত। তাই শুধু মাত্র হঠাৎ সিদ্ধান্ত বা কারো কথায় ফোন কেনা উচিত নয়।

ভালো ফোন যাচাই-বাছাই করার জন্য অনেক দিকে নজর দেওয়া জরুরি যা আমার এই আর্টিকেলে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।আপনি উপরোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি নজর দিয়ে যদি আপনার পছন্দের ফোনটি কিনে থাকেন তাহলে এটি আপনি দীর্ঘদিন ব্যবহার করতে পারবেন ও  আপনার ভালো অভিজ্ঞতা হবে।

পরিশেষে একটা কথাই বলতে পারি ফোন কেনার আগে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী এবং আপনার বাজেট অনুযায়ী ফোন নির্বাচন করুন এবং আপনার বাজেট এর মধ্যে সেরা ফোন খুঁজে পেতে আমার এই আর্টিকেলটি আপনাকে সাহায্য করবে আশা করছি।

 

পরামর্শঃ ফোন কেনার পরে আপনাকে দেওয়া ওয়ারেন্টি কার্ড এবং ক্যাশ মেমো অবশ্যই যত্ন সহকারে রেখে দিবেন। কারণ এই কাগজগুলো ছাড়া আপনি যদি ওয়ারেন্টি পেয়ে থাকেন পরবর্তীতে সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে কোন সেবা পাবেন না। আর আপনার কাছে এই কাগজ ২ টি থাকলে সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে যদি দেখান তাহলে তারা আপনাকে আপনার প্রয়োজনীয় সেবা দিতে বাধ্য থাকবে। 






এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

নুভিয়া নেস্ট নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url